Posts

Showing posts with the label গল্প

কে

বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে। ঝুম বৃষ্টি না। তারচেয়ে একটু কম। মাঝারি বর্ষণ বলা যেতে পারে। বিছানায় শুয়ে বৃষ্টির শব্দ শুনছি। একবার মনে হোলো জানালাটা খুলে বৃষ্টি দেখি কিন্তু পর মুহূর্তেই চিন্তাটা বাদ দিয়ে দিলাম। কারণ জানালা খুললেই ঘরে মশা ঢুকবে। আর মশা ঢুকলেই কয়েল ধরাতে হবে। এখন কয়েল ধরাতে ইচ্ছে করছে না। তাই চুপচাপ শুয়েই থাকলাম। আমার পরিবার বলতে আমি আর আম্মা। এখন আম্মা নেই। খালার বাড়িতে গেছেন। ফিরতে সন্ধ্যে হবে। হঠাৎ দরজায় টোকা দেওয়ার শব্দ হলো। অবাক হয়ে ভাবলাম - আম্মা এত তাড়াতাড়ি এসেগেছেন! এক ঘণ্টাও তো হয়নি। খালার বাড়িতে যেতে আসতেই তো এক ঘণ্টার বেশি লাগার কথা। নাকি যায়নি কোন কারনে। এসব ভাবতে ভাবতে আবার দরজায় টোকা পড়ল। বিছানা ছেড়ে দরজার কাছে গেলাম। দরজাটা খুলতে যাব এমন সময় বাইরে থেকে হাঁক দিয়ে উঠল - আম্মা দরজা খোলো, এতক্ষণ লাগে... চমকে উঠলাম। আরে এটা তো আমার গলা!

স্বপ্ন

এক তখনো এদেশে লকডাউন শুরু হয়নি। রাতে খেয়েদেয়ে সাড়ে নয়টার মধ্যে বাসা থেকে বেড়িয়ে পড়লাম। গন্তব্য - রেজা ভাইয়ের বাসা। গিয়ে দেখি ভদ্রলোক ছাদের উপর একটা পাটির উপর চিত হয়ে শুয়ে উদাস ভাবে সিগারেট টানছেন আর আকাশের দিকে ধোঁয়া ছাড়ছেন। আমার দিকে না তাকিয়েই বললেন - এসো লেখক।  আমি গিয়ে তার পাশে বসলাম। জিজ্ঞেস করলাম - কি করে বুঝলেন যে আমি? তিনি এবারো আমার দিকে না তাকিয়ে উত্তর দিলেন - পায়ের শব্দ। মনে মনে ভাবলাম লোকটা কত অদ্ভুত। একটা দোতলা বাড়ির ছাদের উপর পিচ্চি পিচ্চি দুটো ঘর ভাড়া নিয়ে থাকেন। গাদা গাদা বইপত্র, ম্যাগাজিন আর কাগজত্রে ঠাসা দুটো ঘর। একটা ল্যাপটপ আছে। আমি নিশ্চিত ওর মধ্যে বিনোদনমূলক কিছুই খুঁজে পাওয়া যাবে না। ছাদের উপর অন্তত ত্রিশ প্রজাতির ক্যাকটাস দিয়ে একটা বাগান করেছেন। মাঝে মধ্যে এসব ছেড়ে কিছুদিনের জন্য হাওয়া হয়ে যান। এই হাওয়া হয়ে যাওয়ার ব্যাপারটাই অবশ্য তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। তিনি বাড়ি থেকে বেড়িয়ে পরেন গল্পের খোঁজে। সেসব গল্প কখনো হয় রহস্যময়, কখনো অদ্ভুত, কখনো ভয়ংকর আবার কখনো বা সুযোগ করে দেয় মাথা খাটানোর। এই যে পৃথিবী জুড়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলা হচ্ছে তুমি ...

বলবো না

তখন সবে হাই স্কুলে পা দিয়েছি। শীতের মধ্যে সকাল সকাল লেপের নিচ থেকে উঠতে কি যে কষ্ট হতো। হাতমুখ ধোয়ার জন্যে পুকুরের সামনে দাঁড়াতেই মনে হতো ঝেড়ে একটা দৌড় দিয়ে আবার লেপের মধ্যে গিয়ে ঢুকি। অবশ্য মায়ের রুদ্রমূর্তিটা মনে পড়ত বলে তেমনটা করা হতো না কখনোই। গরম ভাতের সাথে কোন দিন বর্তা, কোন দিন ভাঁজি অথবা ডাল এই দিয়ে খেয়েদেয়ে তৈরি হয়ে বেরিয়ে পড়তাম স্কুলের জন্যে। ঈদগার কাছাকাছি এসে সবার সাথেই দেখা হতো। তারপর পাখির মত দল বেঁধে আনন্দগুলো ভাগাভাগি করে কাটিয়ে দিতাম সারাটা দিন। এটাই যেন নিয়ম হয়ে গিয়েছিল আমাদের। কিন্তু নিয়ম তো ভাঙার জন্যেই। একদিন সকালের কথা। ঘুম ভাংতেই দেখি মা বাবার মাথার কাছে কপালে হাত দিয়ে বসে কাঁদছে। বাবা শুয়ে আছে। মাঝে মাঝে কোকীয়ে উঠছে, ব্যথায়। তখন হাঁটুগুলো অনেকটা ভাজ করে উপরে নিয়ে আসছে, কুচকে ফেলছে চোখ, দু’হাত দিয়ে খামছে ধরছে পেট। আমি বুঝতে পারলাম ব্যথাটা পেটে। ধীরে ধীরে বাবা কিছুটা শান্ত হয়ে এলো। মা উঠে গেল পাশের ঘরে। আমি পাশেই বসে ছিলাম। হঠাৎ বাবা বালিশ থেকে মাথাটা একটু তুলে বলল – ‘গায়ে কোথাও পচন ধরলে কেমন লাগে জানিস?’ আমি এমন প্রশ্ন কোনদিন শুনিনি। জিজ্ঞেস করলাম – ‘কেমন লা...

আঙুর ফল টক

অনেক দিন পরে সুবর্ণার সাথে দেখা। একটা বিয়ের অনুষ্ঠানে। সাথে ওর স্বামী আর চার-পাঁচ বছরের একটা বাচ্চা। মোটামুটি আগের মতই দেখতে এখনো। তবে শরীরটা কিছুটা ভারি হয়ে গেছে। খেয়াল করলাম হাঁটার সময় কেমন হাঁসের মত হেলেদুলে হাঁটছে। দেখতে খারাপ লাগছে না ব্যপারটা। কিন্তু ওর হাঁটা দেখলেই বারবার ‘দোল দোল দুলুনি’ গানটা মনে পড়ছে। ওই প্রথম আমাকে দেখে ডাকল – ‘সুমন, এই সুমন’। খালি পকেটে রাস্তায় বেরিয়ে দুশো টাকা কুড়িয়ে পেলে যেমন অদ্ভুত আনন্দ হয় ওকে দেখার পর আমারও সেরকম আনন্দ হল। ‘আরে তুমি এখানে’? চোখ-মুখে বিস্ময় নিয়েই জিজ্ঞেস করলাম। ‘হু, কতদিন পরে দেখা তাই না’? ‘হ্যাঁ’… অনেকক্ষণ চলল আমাদের কথা। আমাকে ওর স্বামীর সাথে পরিচয় করিয়ে দিল আর বাচ্চাটির সাথে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিল মামা বলে। ভাবা যায়! অথচ এই সুবর্ণাকেই আমি একদিন কত চাইতাম মনে মনে। ওর বাচ্চাটি বেশ চঞ্চল প্রকৃতির। এক যায়গায় স্থির থাকতেই রাজি নয়। তাই ওর স্বামী হাঁটার জন্য বাচ্চাটিকে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে গেল। আমরা দুজনে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলাম। সুবর্ণার চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকাতে আমি ভাবলাম এবার আমার যাওয়া উচিৎ। কিন্তু হঠাৎ ওই নিরবতা ভাংল – ‘মনে আছে ভার্সিটিতে ...

বিবাহোত্তর কাব্য

শেষমেশ বিয়েটা করেই ফেলল ওরা, সেটাও দু’বছর আগের কথা। অবশ্য এটাই স্বাভাবিক ছিল। সকল প্রেমই একটা পরিনতি চায় আর সেই পরিণতিটা হচ্ছে বিয়ে। কথায় আছে বিয়ে একশ কথা নিয়ে। ওদের বিয়েতেও তাই হয়েছিল। অনেকেই রাজি ছিলনা শুরুর দিকে। কিন্তু পাত্র-পাত্রী নিজেরাই যেহেতু উদ্যোগী হয়ে মাঠে নেমে পড়ল তাই নিমরাজি সদস্যদের আর করার কিছুই থাকল না। ভালোয় ভালোয় বিয়ের ব্যপারটা উতরেও গেল। এর মধ্যে দেখতে দেখতে দুটি বছরও কেটে গেছে। সব ঠিকঠাকই চলছিল কিন্তু এদানিং পাত্রী মানে বর্তমানে যিনি স্ত্রী, তার বেশ অভিমান হতে দেখা যায়। তার অবশ্য বেশ জোড়াল কারণও আছে, বিয়ের আগে পাত্র মানে বর্তমানে যিনি বর, নিয়ম করে স্ত্রীর জন্যে কবিতা লিখত, সেগুলো আবার ফেসবুক মেসেঞ্জারে পাঠিয়েও দিত। প্রথম প্রপোজটাও কিন্তু কবিতা দিয়েই হয়েছিল। আমাদের গল্পের বর তার স্ত্রীকে লিখেছিল – যদি অনুমতি দাও তবে কাছি আসি বলতে চাই, ভালোবাসি, ভালোবাসি, ভালোবাসি… আর আজকাল? কাব্য টাব্য সব শিকেয় উঠেছে। বরটি কিইবা করবে? এখন তো আর একা নয় যে প্রোমোশনের চিন্তা বাদ দিয়ে কোনরকমে চাকরীটা করবে আর সঙ্গিনীর জন্যে কবিতা লিখবে। এখন তাকে ভাবতে হয় ভবিষ্যতের কথা। তাই চাকরীটা...

দিন শেষে একা

লাল রংটা কল্যাণের বেজায় অপছন্দ। কিন্তু আজ এই রঙটাই ওকে দেখতে হবে অনেকক্ষণ। তারপর… হাতের ঘড়িটা একবার দেখেনিল কল্যাণ। তিনটা বেজে ছাব্বিশ। অনেক রাত। কিন্তু মোড়ের সিগারেটের দোকানটা এখনো খোলা। সারারাতই খোলা থাকে। খুব ইচ্ছে হচ্ছে গিয়ে একটা সিগারেট খেতে কিন্তু উপায় নেই, বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে। এঘড়ে কোন ছাতা নেই। এত রাতে মায়ের রুমে গিয়ে ছাতা নিয়ে আসার প্রশ্নই আসে না। অগত্তা সিগারেটের চিন্তাটা বাদ দিতে হল। চিত হয়ে বিছানায় শুয়ে আছে ও। ভাবছে – এখনই শুরু করবে কি না। ভাবতে ভাবতে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল বুক চিড়ে। কত রঙিন মনে হত একসময় জীবনটাকে। মনে হত যত সমস্যা সব বড় হলেই ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু না বড় হওয়ার সাথে পাল্লা দিয়ে সমস্যাগুলোও আরও বড় হয়েছে। ও কাওকে বুঝতে দেয়না, দীর্ঘশ্বাসগুলো চাপা দিয়ে দেয় বুকের মধ্যে। মাঝে মাঝেই নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসতে চায় কিন্তু কাওকে বলে না। একটা সময় খুব একাকীত্বে ভুগতো ও। খুব একা একা লাগত; খুব। তারপর নিজেই একসময় আবিষ্কার করল – একাকীত্ব আসলে দুর্বলতা নয় শক্তি, a source of energy. কারন? কারনটা খুব সহজ। একা মানুষের হারানোর ভয় থাকে না। এমন নয় যে ওর পৃথিবীতে কেউ নেই। আছে সবাই ...

অসুখ

একগাদা ওষুধ লিখেছে ডাক্তার। সেগুলো নিতেই আজ এদিকটাতে আসা। নয়তো এদিকের এই ভিড়ের মধ্যে কে আসতে চায়। শহরের এদিকটায় আসার একটা ভালো দিকও আছে – এখানে প্রায় সব ওষুধ পাওয়া যায় তাও আবার পাইকারি দামে। ছোট দোকানটায় যায়গা বড়ই কম তবুও মানুষের উপচে পড়া ভিড়। পনের মিনিট হতে চলল দাঁড়িয়ে আছি তো আছিই। সিরিয়াল পাবার নাম গন্ধও নেই। অবশেষে কাউন্টারে গিয়ে দাঁড়ালাম। প্রেসক্রিপশনটা দোকানদারের হাতে দিলাম, ব্যস। এবার শুধু অপেক্ষার পালা। আমার বাঁদিকটায় দেয়াল, দোকানের শেষপ্রান্ত আর ডানপাশে দাঁড়িয়ে আছে এক বৃদ্ধ। তার ওষুধ নেওয়া বোধয় শেষ তবুও একবার মিলিয়ে দেখছে ঠিকঠাক আছে কি না। আমি সারি সারি করে সাজানো ওষুধের বাক্স দেখে দেখে নাম পড়ছি আর ভাবছি – সকল রোগের ওষুধ কি সত্যই পাওয়া যায়। হঠাৎ সিনিয়র একজন দোকানদার জুনিয়র একজনকে প্রশ্ন করল -‘ওই চাচা কি ট্যাকা দিছিল’? আমি ডানে তাকিয়ে দেখলাম বুড়ো নেই। ‘না তো ভাই’। জুনিয়র উত্তর দিল। ‘ট্যাকা না দিয়া গেল কই? জলদী যা, খুইজ্জা লইয়ায়।’ কিছুক্ষণ পর ছেলেটা সেই বৃদ্ধ লোকটিকে হাতে ধরে নিয়ে এলো। স্বাভাবিক ভাবেও নয় আবার ঠিক টানতে টানতেও নয়। তবে দেখে...

নীড়হারা

"ঘুম পাচ্ছে বাবা? এক্ষুনি বাসায় চলে যাব..." বলতে বলতে ছেলেকে কোলে নিয়ে শহীদ মিনারের গেইট থেকে বেরিয়ে গেল লোকটি। সেদিকে তাকিয়ে নিজের অবস্থানটা যেন আরেকবার বুঝতে পারলো মহিলাটি। মহিলা বলাটা ঠিক মানানসই হচ্ছে না আবার তাকে মেয়েও বলা যাচ্ছে না। সে আগে থেকেই জানতো, এখানে আজ জায়গা হবে না। তবুও এসেছিল। শহীদ মিনার চত্বরের কৃষ্ণচূড়া গাছটার কাছাকাছি যে বেঞ্চটা আছে তাতে সে ঘুমায়, সাথে থাকে তার হামাগুড়ি দেওয়া ছেলেটা। বহুদিন হলো তারা এখানে ঘুমায়। বিশেষ বিশেষ দিনে যখন সবাই ছুটি পায় তখন তাদেরও ছুটি দেওয়া হয় সিমেন্টের তৈরি শক্ত বিছানাটিকে। কিন্তু ঘুম কি ছুটি নেয় কখনো? তাই তো ফিরে আসা।  ছেলেটা বারবার ঘুমে ঢলে পড়ছে। অযথাই আর সময় নষ্ট করবে না বলে সিদ্ধান্ত নিলো সে। আজ রাতটা কাটানোর জন্য কোন একটা নিরিবিলি ফুটপাথ খুঁজে নিতে হবে।

ফুল

ও বুদ্ধিটা বের করেছে গত বছর। তাই কয়েকদিন আগে থেকেই তক্কে তক্কে ছিল। ফুল জোগাড় করবে বলে। খুব কঠিন হলো না কাজটা। কাছাকাছি একটা বাসা আছে, তার মালিকটা খুব ভালো। মাসে এক-দু বার ওকে দিয়ে বাসার সামনের অংশ আর বাগানটা পরিষ্কার করায়। যেদিন কাজটা করে দেয় সেদিন পেট ভরে খাওয়ায় আবার কটা টাকাও দেয়। টাকাটা পেলে ওর বেশ ভালোই হয়। ওর আর সেদিন কাগজ-প্লাস্টিকের বোতল এসব কুঁড়াতে হয় না। খেলেই সারাটা দিন কাটিয়ে দেয়। সেই বাসার মালিককে বলে ও কটা ফুল চেয়ে নিল। রাতে এগুলো নিয়েই যাবে। রাত সাড়ে দশটা। ও দাঁড়িয়ে আছে শহীদমিনারে ঢোকার গেইটের উল্টো দিকে। কয়েকটা ফুল নিয়ে। আজ এগুলো বেচতে পারলে কালকের দিনটা একটু আরামে কাটবে। খেলার জন্য অনেকটা সময় পাবে। হঠাৎ একটা পুলিশ ওকে দেখে খেঁকিয়ে উঠল - 'অই ফকিন্নির বাচ্চা এইখানে কি করস, যা এইহান থাইকা'। ও বুঝতে পারলো এখানে থাকা যাবে না, পুলিশ গরীবদের পছন্দ করে না আর ফুলগুলো বেচতে হলেও গেইটের কাছে যাওয়া দরকার। তাই রাস্তার উল্টো দিকে গেইটটা লক্ষ করে দৌড় লাগাল। গাড়িটা জোর ব্রেক কষেও থামতে পারল না। গরীব বাচ্চাটা চাপা পড়ল দামী টায়ারের তলায়। হাত থেকে রাস্তায় ছিটকে পড়ল ফুলের ত...

ম্যাসেঞ্জার

কয়েক সেকেন্ড পরপর ম্যাসেজ আসছে। - কি উত্তর দাও না কেন? - এখন কথা বল না কেন? - বল কথা, বল :( - প্লিজ... - কি গো :( মোবাইলটা হাতে নিয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলো লোকটি। কি উত্তর দেবে বুঝতে পারছে না। ওদিকে মেয়েটা উত্তরের জন্যে ব্যাস্ত হয়ে উঠেছে। মেয়েটার ম্যাসেজে এতক্ষণের রাগারাগির ঝাঁজটা আর নেই। মধ্যবয়সী গুরুগম্ভীর লোকটির চোখদুটি ছলছল করে উঠলো। কি করে বলবে মেয়েটিকে যার উত্তরের জন্যে সে ব্যাস্ত হয়ে উঠেছে কয়েক মিনিট আগেই সেই ছেলেটি এক্সিডেন্টে মারা গেছে আর মোবাইলটা ছিটকে এসে পড়েছে তার পায়ের কাছে।

প্রায়শ্চিত্ত

কত হলো বয়স? এ'বছর চৌষট্টি হবে বোধয়। এখন আর ওসব মনে থাকে না। মনে রেখেই বা কি লাভ? জীবনের সকল হিসেবেই যখন গড়মিল তখন বয়সের হিসেব করা অর্থহীন। নদীর ধারে আসেননি বহুদিন। আজ অফিস না থাকায় চলে এলেন। অফিস বলতে কোচিং; একটা কোচিঙে অ্যাকাউন্টেন্ট হিসেবে চাকরী করেন তিনি। সকালের এসময়টায় নদীর ধারে মানুষজন কম থাকে। ভালোই হয়েছে। তিনিও চাইছেন না এখন মানুষের মধ্যে থাকতে। একটু একা থাকতে চান। ভাবতে চান। স্ত্রী সারাজীবন বিনা অভিযোগে পাশে থেকেছেন। ভালোমন্দ কত সময় গেছে, সব সময় মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছেন। অনেকসময় পারেননি অসুস্থতার কারনে। বেচারি সাড়া জীবন বিভিন্ন অসুখবিসুখেই কাটিয়ে দিল। কেনাকাটা খুব পছন্দ তার। একসময় যখন সংসারের অবস্থা ভালো ছিল তখন সপ্তাহে অন্তত দুবার যেতেন শপিঙে। আর এখন...কত বছর হয়ে গেল তেমন করে শপিঙে যান না। কখনো যদিও যান, তিনি খেয়াল করে দেখেছেন প্রয়োজনীয় জিনিসটার দোকানে ঢুকে কিনে চলে আসেন। শাড়ি, গয়না, জুতা, ক্রোকারিজের দোকানের দিকে পারতপক্ষে তাকান না, যেটুকু দেখেন তা আড়চোখে যেন তিনি বুঝতে না পারেন। বড় ছেলেটা কিছুই করে উঠতে পারছেনা এখনো। কয়েকটা টিউশনি করে, ঐ দিয়েই...

বাটার ভাইয়ের ইতিহাস

বাটার ভাইয়ের ইতিহাস +++++++++++++++++ "ডিস্টাব করিস না, থাণ্ডার প্যারালাইজে আছি।" এটা বাটার ভাইয়ের কমন ডায়লগ। খুব চিন্তার মধ্যে থাকলে এটা সে বলবেই। তো এহেন বাটার ভাই কি করে বাটার ভাই হলেন সে এক ইতিহাস বটে। আমরা তখন এসএসসি ডিঙিয়ে সবে কলেজ জীবন স্টার্ট করেছি। অল্প বয়সি দাড়িগোঁফ কেটে-ছেঁটে আজব সব স্টাইল করে আর শার্টের কলারটা উঁচু করে এলাকায় টহল দেই। বাটার ভাই তখন লেখাপড়ায় ইস্তফা দিয়ে নিয়মিত আমাদের সাথে পার্কে আড্ডা দেয়। লেখাপড়া ছেড়ে দেওয়া সম্পর্কে তার বক্তব্য - "ওইসব বইটই আমার লাইগা লেখছে না"। সে সময় একবার হোল কি, বাটার ভাইয়ের ব্যাপক ইচ্ছা হল ফর্সা হওয়ার। যে যা বলছে তাই করছে। ফর্সা তাকে হতেই হবে। কোত্থেকে যেন শুনে আসলো গায়ে বাটার/মাখন মেখে রোদে বসে থাকলে ফর্সা হওয়া যায়। ব্যস, আর কে আটকায়। একদিন দুপুরে হঠাৎ দেখা গেল বাটার ভাই বাসার ছাদে প্রায় দিগম্বর হয়ে গায়ে বাটার মেখে চিত হয়ে শুয়ে আছে। আশেপাশের বাড়ি থেকে যে লোকজন তাকে দেখে দাঁত ক্যালাচ্ছে সেদিকে তার কোন খেয়ালই নাই। তারপর থেকেই সবাই তাকে বাটার বলে ডাকতে শুরু করে আর সিনিয়ার হওয়ায় আমরা বল...

খেলনা

সেলিম মায়ের সাথে প্রতিদিনি আসে এবাড়িতে। সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে হাতমুখ ধুয়েই চলে আসে। মা ওকে ড্রয়িং রুমের কার্পেটের উপর বসিয়ে রেখে কাজ শুরু করে। অনুমতি ছাড়া ও যেতে পারে না কোথাও। মা কাজ করে, ও বসে বসে দেখে। সকালে এসেই পুরো বাড়িটা ঝাড়ু দেয় তারপর চলে যায় রান্নাঘরে। রান্না-বান্না হলে সবার জন্য খাবার টেবিলে বেড়ে দেয়। সবাই যারযার মতন খেতে থাকে আর মা এবাড়ির বাচ্চাটা যে কিনা সেলিমের সমবয়সী তাকে খাইয়ে দেয়। খাওয়া শেষ হলে ছেলেটাকে স্কুলের জন্য পোশাক পরিয়ে তৈরি করে দেয়। তারপর একে একে সবাই যখন চলে যায় তখন মা ওকে নিয়ে খেতে বসে রান্নাঘরে। খাওয়া শেষ করে মা শুরু করে বাড়ির আসবাবপত্র ঝাড়পোছের কাজ। ও বসে থাকে কার্পেটের উপর, কোথাও যাওয়ার অনুমতি নেই। মাঝে মাঝে এবাড়ির গুরুগম্ভীর লোকটা দুপুরের আগেই বাড়ি চলে আসে তখন মা আগেভাগেই রান্না চাপিয়ে দেন। লোকটাকে দেখলেই ভয় লাগে। ওকে ভয় দেখাতেই যেন আজকেও দুপুরের আগেই চলে এসেছে। এরকম সময় ও চাইলে বাড়িটা ঘুরে দেখতে পারে কিন্তু তা ও করবে না। ও চলে যাবে বাচ্চাটার রুমে। ওখানে অনেক খেলনা - বল, পুতুল, বন্দুক, গাড়ি আরও কত ...

জাতক ও জাতকের গল্প

Image
ছবি গুগল থেকে ভারতের প্রাচীনতম গল্পসংগ্রহের নাম হল "জাতক", পালি ভাষায় "জাতকত্থ বন্ননা"। জাতক হল বুদ্ধের পূর্বজন্মের কাহিনির সঙ্কলন। অনেকের মতে 'জাতক' হল পৃথিবীর সমস্ত ছোট গল্পের উৎস। সিংহলি ভাষায় যে জাতক প্রচলিত আছে, বর্তমানের "জাতক" তারই অনুবাদ। সাহিত্যিক নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যাইয়ের মতে - "জাতকের গল্পগুলো ভারতের প্রাচীনতম সঙ্কলন, এদের কিছু কিছু কাহিনি বুদ্ধের জন্মের পূর্ব থেকেই চলিত, কতগুলি বুদ্ধের সমকালীন, কতগুলি বা পরবর্তী। খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতক থে কে খ্রিস্টীয় পঞ্চম শতক পর্যন্ত জাতককাহিনির নির্মিতিকাল বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে।" এর গল্পগুলোর অনেকগুলিই কিছুটা পরিবর্তিত অবস্থায় পাওয়া যায় 'আরব্য উপন্যাস'এ। একটি জাতকের গল্পঃ পূর্বজন্মে বুদ্ধ একবার পাখিদের রাজা হয়ে জন্মেছিলেন। সে সময় তার দলের পাখিরা দূর দূরান্তে যেত খাবার খেতে। কিন্তু কাছেই একটা রাস্তা ছিল যার উপর দিয়ে প্রায়ই শস্যবোঝাই গাড়ি যেত। যাওয়ার সময় গাড়ি থেকে শস্যদানা পড়তো রাস্তায় কিন্তু পাখিরা এসব খেত না ভয়ে। তাদের ভয় দেখাত দলেরই একটি প...

ওরা

ওদের দুজনকে দেখলেই বুঝা যায়, মেড ফর ইচ আদার। হাত ধরাধরি করে সিঁড়ি দিয়ে উপড়ে উঠে আসছে। ফিসফিস করে কি যেন বলছে আর হেঁসে হেঁসে এ ওর গায়ে গিয়ে পরছে। এই সন্ধ্যেবেলা একজোড়া যুবক যুবতী এমনি এমনি তো আর আসেনি এখানে। কিইবা করার আছে ওদের। এসব তো আর যেখানে সেখানে করার উপাই নেই। অগত্যা এই নির্মাণাধীন বিল্ডিংটাকেই বেঁছে নিতে হলো। আকাশে পূর্ণিমা কিন্তু এখানে, এই বিল্ডিঙে কোন আলো নেই। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, একটা বিশাল কাল অবয়ব দাঁড়িয়ে আছে। একটা বহুতল বাড়ির কঙ্কাল। ওদের অবশ্য এসব ভাবার সময় নেই। ইচ্ছেটা ওদের মধ্যে এখন খুব প্রগার। ওরা যায়গা খুঁজছে। রুমগুলো এখনো তৈরি হয়নি। শুধু দেয়াল উঠেছে, না আছে জানালা, না আছে দরজা। একটা ঘর দেখে ওরা এগিয়ে গেল। হুম... এই ঘরটাই। পারফেক্ট। একদম পারফেক্ট দেখতে। যেমন শুনেছিলো ঠিক তেমনি। ছেলেটা দেখতে বেশ নাদুসনুদুস, ফর্সা; টোকা দিলে যেন রক্ত জমে যাবে। হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পড়ে আছে মেঝেতে। গোঙাচ্ছে। ওরা দুজন এগিয়ে গেল ছেলেটার দিকে, তারপর মুখ চাওয়া-চাওয়ি করলো পরস্পর। মুচকি হাসল দুজনে। দুজনের মুখের দুপাশ থেকে বেড়িয়ে এলো লম্বা দুটো দাঁত। ঝাঁপিয়ে পড়লো ওরা ছেলেটির উপর.....

একজন অন্যরকম লেখক

যেটা আপনি চাক্ষুষ দেখেননি, সেটার যথার্থ বর্ণনা আপনি দিতে পারবেন না। যদি রং চরিয়েও বলেন তাহলে হয় রং কম হয়ে যাবে নয়তো বেশি। এই ব্যাপারটা আমি গোঁড়াতেই বুঝেছিলাম, তাই যতক্ষণ কোনকিছু চাক্ষুষ না দেখছি লেখার প্রশ্নই ওঠে না। ও (আমার স্ত্রী) বিছানার উপর, আমি বসে আছি ঘরের অন্য পাশে সোফার উপর। এখান থেকেও আমি ওর গায়ের সুগন্ধটা পাচ্ছি। কি এক তীব্র আকর্ষণ। চার বছর কেটে গেল তবুও কত মায়া। কি মিষ্টি মুখটা ওর, হরিণীর মতন চোখ, গোলাপের পাপড়ির মত ঠোঁট, চুলগুলো যেন কালো মেঘ। ওর বুকে মুখ গুজে দিয়ে যে সুখ আমি অনুভব করি তা পৃথিবীর কোথাও আর পাবো না আমি জানি। প্রায়ই চিন্তাটা মাথায় আসে, ওকে নিয়ে একটা প্রেমের কবিতা লিখি। হয়ে ওঠে না। রুদ্ধশ্বাস থ্রিলার ছাড়া না আমি কিছু পড়ে স্বাদ পাই, না লিখে; লিখতে পারিও না অন্যকিছু। তবুও চেষ্টা করেছিলাম - "এতো দেখি তবুও ইচ্ছে জাগে বারবার তোমায় নিয়ে কবিতা লেখার ভাষা হয়নি যোগাড়" যে থ্রিলারটা লিখছি তাতে একটা মেয়েকে কেন্দ্র করেই রহস্য দানা বাঁধতে শুরু করে, রহস্য যখন অনেকটাই উন্মোচিত হয়ে আসছিলো তখন গল্পটাকে আরও একটু রুদ্ধশ্বাস করবার জন্যে মেয়েটাকে খুন করার একটা নতুন...

লেখক খুন

ভোর হতে না হতেই ইন্সপেক্টরের ফোন। তার পরেই চলে এলাম এখানে। একজন লেখকের বাড়ি। খুব বড় লেখক নন। মোটামুটি ধরণের। এলোমেলো জীবনযাপন করতেন। বয়স ত্রিশ থেকে পঁয়ত্রিশের মধ্যে। কাল রাতে খুন হয়েছেন। সকালে পত্রিকাঅলা পত্রিকা দিতে এসে দেখে দরজা খোলা, ভেতরে লাইট জ্বলছে, জানালা খোলা হয়নি। এমনটা কখনো দেখা যায়নি এবাড়িতে। তাই কৌতূহলবশত ভেতরে ঢোকে। তখনই দেখতে পায় লেখকের লাশ, পুলিশে খবর দেয়। তাকে অবশ্য ইন্সপেক্টর এখন বারান্দায় বসিয়ে রেখেছে। এলাকাটা নিরিবিলি। উঁচু উঁচু বিল্ডিং এখানে কম। একতলা পাকা বাড়িটার চারদিকে দেয়াল। ভেতরে যাই ঘটুক বাইরে থেকে বোঝা সম্ভব নয়। গেইটটা অবশ্য বাইরে থেকে খোলা যায় তবে ওটা দেখে মনে হচ্ছে খোলাই থেকে সবসময়। পঞ্চাশ-ষাট বছরের পুরনো বাড়ি। দুটো বেডরুম, একটা অব্যবহৃত, একটা ড্রয়িং প্লাস ডাইনিং রুম, তার লাগোয়া কিচেন ও বাথরুম। দেখে বোঝা যায় এক-দুবার সংস্কার করে বর্তমান চেহারায় আনা হয়েছে। বাড়ির সামনে একটু যায়গাও আছে, আগাছা পূর্ণ। লেখকের লাশটা বেডরুমেই উপুড় হয়ে পড়েছিল। ছুরি দিয়ে করা হয়েছে খুনটা। ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এখনো মেঝের অনেকটা রক্ত পড়ে আছে, জমাট রক্ত। ভাবছি খুনের ম...

আহা জীবন

আহা জীবন! কত স্বাদ বেঁচে থাকার। আমিও আছি একরকম। আচ্ছা ও কি জানে আমি কখন কিভাবে বেঁচে থাকি? কতবার কিভাবে মরেছি? জানে না বোধয়। ও শুধু জানে আদর, যত্ন আর ভালবাসা। প্রেম, ব্যাপারটা কি ও ঠিকঠাক বোঝে? আমিই কি বুঝি? গতপরশু খুব মন খারাপ ছিল আমার, ও বারবার জানতে চাইল কেন মন খারাপ? আমি বোঝাতেই পারলাম না যে কারণ আমার জানা নেই। শেষমেশ ওরও মন খারাপ হয়ে গেল। বুঝতেই পারল না আমার কেন যে মন খারাপ তা যদি আমি জানতাম তাহলে ওকে বলতাম। ওর চেয়ে ভালো আর কে বাসে আমাকে? ওর বুকের মধ্যে মুখ গুজে দিলে একটা সুন্দর গন্ধ পাই। একটা স্বর্গীয় সুখ। আহা এই তো জীবন। এভাবেই বাঁচতে চাই। প্রথম যেদিন ওর ঠোঁট আমার ঠোঁটকে ছুঁয়ে গেল মনে হোল যেন নিজেই নিজের ঠোঁট ছুঁয়ে দিলাম। ওটা যেন আমারি ঠোঁট। ও যদি আমার হয় তাহলে ওর ঠোঁট কেন আমার হবে না। সেই উষ্ণ কোমল ঠোঁট আমি শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত মনে রাখব। সিগারেট খেয়ে ওর সামনে গেলে চোখের দিকে তাকাতে পারি না আমি। মায়াবী চোখ দুটি অবুঝ প্রশ্ন ছুড়ে দেয় আমার দিকে - কেন? কি যে অস্বস্তিতে পরে যাই আমি। ওকে জড়িয়ে ধরে একটা জীবন কাটিয়ে দেওয়ার মত কাল্পনিক ভাবনা আমি ভাবি না, পাশাপাশি দাড়িয়...

সেলসম্যান

এদিক ওদিক তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করলাম কজনের চোখে পড়েছে ব্যাপারটা। রিক্সাটার জন্যেই যত গণ্ডগোল। ভাবলাম রিক্সাটা আসতে আসতে আমি রাস্তা পার হয়ে যাব। বুঝতেই পারিনি ওটার পেছনেযে মোটর লাগানো আছে। এই এক যন্ত্রণা হয়েছে আজকাল, একে একে রিক্সাগুলোকে ধরে ধরে মোটর লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অনেকটা কচ্ছপের পেছনে মোটর লাগিয়ে দেওয়ার মত ব্যপার! যখন বুঝলাম ওটা মোটর লাগানো রিক্সা গতি বেশি তখন দ্রুত পার হতে গিয়ে হুড়মুড় করে গিয়ে পরলাম একটা অটোর (ইজি বাইক) সামনে। মনে হয় পূর্বপ ুরুষের পুণ্য ছিল তাই অটোটা ব্রেক কষল। ধপাস করে সামনের গ্লাসে একটা ধাক্কা খেয়ে রাস্তায় পড়লাম। কয়েক মুহূর্তের মৃত্যুভয় তারপর অটোওয়ালার বকা শুনতে শুনতে উঠে রাস্তা পার হলাম। গালিগালাজ করেনি সম্ভবত পরনের পোশাগুলোর জন্য। সভ্য দুনিয়ায় মানুষের ওজন বাড়ানো-কমানোর ক্ষেত্রে পোশাক একটা বড় ভূমিকা রাখে। বেশি কিছু হয়নি, বাঁহাতের আস্তিনের দিকে কিছুটা ছিঁড়ে গেছে। চামড়াও ছড়ে গেছে কিছুটা। জ্বলছে।  ছেঁড়া শার্ট নিয়ে ঘুরে বেড়ানোটা খুব বিরক্তিকর। চাইলে এখনি বাড়ি গিয়ে বদলে আসতে পারি কিন্তু তাতে অনেক দেরি হয়ে যাব। হাতাটা গুটিয়ে এভাবেই যেতে হবে। ...

এক কাপ চা (জেন গল্প)

Image
Zen Buddhism-এর প্রতীক বোধিধর্ম’ নামে একজন ভারতীয় বৌদ্ধ সন্ন্যাসী ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে পঞ্চম শতাব্দীর গোড়ার দিকে চিনে গিয়েছিলেন । চিনে তখন তাও ধর্মের প্রচলন থাকলেও অনেক চিনারাই এই ধর্মকে গ্রহণ করে । ‘ধ্যান’ বৌদ্ধ ধর্মে অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ন । তো এই ভারতীয় শব্দ ‘ধ্যান’ চিনে গিয়ে হয় Chán । অস্টম শতাব্দীর শুরুর দিকে Chán এর ধারনা পৌছায় জাপানে । Chán এর জাপানি সঙ্করণ হল Zen । সর্বজনিন ভাবে বলা হয় Zen Buddhism । এই Zen Buddhism -এর সন্ন্যাসীদের নিয়ে অনেক শিক্ষামূলক গল্প প্রচলিত আছে । এসব গল্পকে বলা হয় জেন গল্প । বহুল প্রচলিত একটি জেন গল্প- এক কাপ চা Nan-in (১৮৬৮-১৯১২), জাপানের একজন জেন বৌদ্ধ সন্ন্যাসী । একবার এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তার কাছে এলো জেন বৌদ্ধ ধর্ম সম্পর্কে জানতে । Nan-in অধ্যাপককে চা দিয়ে আপ্যায়ীত করার জন্যে তার সামনে একটি কাপ রাখলেন এবং তাতে চা ঢালতে থাকলেন । পেয়ালাটি ভরে যাওয়ার পরেও তিনি চা ঢালতেই থাকলেন । অধ্যাপক যখন দেখলেন Nan-in থামছেন না তখন তিনি বলে উঠলেন – “এটা সম্পুর্ণ ভরে গেছে, আর তো জায়গা নেই” । “এই কাপটির মতই” Nan-in বললেন “আপনিও আপনার ধা...