Posts

Showing posts with the label সভ্যতা

জলে ভাসা দ্বীপ

Image
চৌদ্দ শতকের আগ পর্যন্ত দক্ষিন আমেরিকার উরু (Uru) জাতীগোষ্টির লোকেরা হ্রদের কিনারে কাঠ, খড়, ছন ইত্যাদি দিয়ে নিজেদের তৈরি নৌকাতেই বসবাস করত; অনেকটা আমাদের দেশের বেদে সম্প্রদায়ের মতই। ডাঙায় বিচরণ আর নৌকায় ঘুম এই করে ভালোই কাটত যদি এমারা ইন্ডিয়ানরাও (Aymara Indians) একই এলাকায় বসবাস না করত। এমারা ইন্ডিয়ানরা ছিল দাঙ্গা হাঙ্গামায় উরুদের চেয়ে বেশি শক্তিশালী। তাই এমারা ইন্ডিয়ানদের সাথে উরুদের নিয়মিত ঝামেলা-মারামারি লেগেই থাকত। শেষমেশ এমারাদের সাথে না পেরে নিজেদের পুরোপুরি জলে নিয়ে যেতে বাধ্য হল উরু’রা। উরুদের তৈরি নৌকায় উরু রমণী চৌদ্দ শতকের শুরুর দিকের কোন একটা সময় উরু’রা বাসস্থান হিসেবে বেছে নিল ভাসমান দ্বীপ যা তারা তৈরি করেছে টিটিকাকা (Titicaca) হ্রদের উপর। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকল দ্বীপের সংখ্যা। দ্বীপ তৈরির মূল উপাদান আঁখ গাছ। মজবুত করার জন্য ব্যবহার করা হয় গাছের ডালপালা, মূল আর কাণ্ড। শুধু দ্বীপ নয় উরুদের বাড়ি এমনকি তাদের ব্যবহারের নৌকাও আঁখ গাছ দিয়ে তৈরি। আঁখ গাছ পানিতে দ্রুত পোঁচে যায় তাই নির্ধারিত ব্যক্তিরা নিয়মিত ভাবে প্রতি মাসে আঁখ গাছ পরিবর্তনের কাজটি করে থাকে। এতো গেল উরু ...

মায়া সভ্যতা

Image
‘ মায়া ’ পৃথীবির প্রাচীন সভ্যতা তথা ধর্ম সঙ্ককৃতির মধ্যে অন্যতম। যার সূচনাকাল খ্রিষ্টপূর্ব ২০০০ – ২৫০ অব্দ। এরা মেসোআমেরিকান একটি সভ্যতা। ‘মেসো’ গ্রিক শব্দ যার অর্থ মধ্য আর মেসোআমেরিকা বলতে বুঝায় মধ্য আমেরিকা মূলত মেক্সিকো। মেক্সিকান রাষ্ট্রগুলোর দক্ষিনে এবং বর্তমান গুয়াতেমালা, বেলিজ, এল সালভাডোর এবং পশ্চীমি হন্ডুরাসে এই সভ্যতা বিস্তার লাভ করে। খ্রিষ্টপূর্ব ২৫০ – ৯০০ অব্দ পর্যন্ত অনেক মায়া নগরীগুলো নানাদিক দিয়ে উন্নতি লাভ করে। ৯০০ শতক থেকেই এদের নগর সভ্যতা বিকাশ লাভ করে। উন্নতির শীর্ষে অবস্থানকালে মায়ানদের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ২০ লাখ।এই সভ্যতাটি ছিল বিশ্বের সর্বাপেক্ষা ঘনবসতি এবং সাংস্কৃতিক ভাবে গতিশীল একটি সমাজ। ভৌগলিক বিবরন: মায়া অঞ্চলকে সাধারনভাবে তিন ভাগে ভাগ করা যায়: ১. দক্ষিন মায়া উচ্চভূমি: গুয়াতেমালা এবং চাপাস দক্ষিন মায়া উচ্চভূমির অন্তর্ভূক্ত, ২. দক্ষিন বা মধ্য মায় নিচুভূমি: মেক্সিকান রাষ্ট্রগুলো কাম্পেছ, কুইন্টানা রোও এবং উত্তর গুয়াতেমালা, বেলিজ এবং এল সালভাডোর দক্ষিন বা মধ্য মায়া নিচুভূমির অন্তর্ভুক্ত, ৩. উত্তর মায়া নিচুভূমি: ইয়ুকাটান উপদ্বীপ এবং পুউক পাহাড়গুলো উ...

রাবণের গুণ

Image
রামায়ণ মহাকাব্যে রামের মেলা গুণ – রাজপুরুষত্বম, ধর্মপরায়ণ, বীর, ধীর, সুসভ্য, সুকান্ত, জ্ঞানী, গুণী ইত্যাদি আর রাবণ তার উল্টো বিকলাঙ্গ (দশমুণ্ড), স্বৈরাচারী, অসভ্য, রাক্ষস, কামুক ইত্যাদি। কিন্তু এমন প্রশ্ন মনে আসতেই পারে যে, রামায়ণের রচয়েতা বাল্মীকি (বা যেই হোক) এর আর্যপ্রীতি ও অনার্যবিদ্বেষের কারনেই কি রামকে নায়ক আর রাবণকে ভিলেন হিসেবে দেখান হয়েছে? কারন ঘটনা বর্ণনার নানা ফাঁকফোকর দিয়ে রাবণের কৌলিন্য, শৌর্য-বীর্য ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রকাশ দেখতে পাওয়া যায়; যার ঔজ্জ্বল্য রামের উজ্জ্বলতার চেয়ে বহুগুণ বেশী। রাম ছিলেন ক্ষত্রিয়, চার বর্ণের দ্বিতীয় বর্ণের মানুষ। সেকালের ক্ষত্রিয়রা ছিলো বংশগত যোদ্ধা, অর্থাৎ নরঘাতক। অন্যদিকে রাবণের দাদা পুলস্ত্য ছিলেন ব্ৰহ্মার মানসপুত্র এবং স্বনামধন্য ঋষি, পিতা বিশ্ৰবাও ছিলেন একজন বিশিষ্ট ঋষি। ঋষি মাত্রেই ব্রাহ্মণ। ব্রাহ্মণ-এর সাধারণ সংজ্ঞা হলো – ব্রহ্মাংশে জন্ম যার, অথবা বেদ জানে যে, কিংবা বেদ অধ্যয়ন করে যে, নতুবা ব্রহ্মের উপাসনা করে যে। রাবণ গুণগত না হলেও কুলগত ব্ৰাহ্মণ ছিলেন নিশ্চয়ই। রাবণের রাজমহলকে (কখনো লঙ্কাকেও) বলা হয়েছে ‘স্বর্ণপুরী, তার প্রম...