Posts

Showing posts with the label ইতিহাস

আফ্রিকা থেকে ভারতে আসার গল্প

Image
[এই লেখায় সকল জায়গার নাম বর্তমান সময়ের মানচিত্র অনুযায়ী ব্যবহার করা হয়েছে যেন বুঝতে সুবিধা হয়। আর আফ্রিকা থেকে ভারতবর্ষ আসার (বাব-এল-মান্দেব প্রণালী পেড়িয়ে) অংশটুকুই শুধু বর্ণনা করা হয়েছে (মানচিত্রে Mota নামের যায়গার কাছাকাছি নীল ডটেড লাইনটি দেখুন)। ] ৩,০০,০০০ বছর আগেও আধুনিক মানুষ (হোমো সেপিয়েন্স) পৃথিবীতে বসবাস করতো। তার প্রমাণ পাওয়া গেছে আফ্রিকার মরক্কোতে। আর আফ্রিকার বাইরে আধুনিক মানুষের থাকার সবচেয়ে পুরনো যে প্রমাণটি (১,৮০,০০০ বছর আগের) পাওয়া গেছে সেটি হোল ইজরাইলে। তবে তারা বেঁচে থাকতে পেরেছিল কি না সেটি নিশ্চিত করে বলা যায় না। আধুনিক মানুষের আফ্রিকা থেকে বেড়িয়ে এসে সফল ভাবে টিকে থাকার যে প্রমাণ আমরা পাই তা ৭০,০০০ বছর আগের। তারা আফ্রিকার দেশ ইরিত্রিয়া হয়ে জিবুতির (এটিও আফ্রিকার দেশ) উপর দিয়ে এসে পৌছায় লোহিত সাগরের পাড়ে। সেখান থেকে বাব-এল-মান্দেব প্রণালী পেরিয়ে পৌছায় ইয়েমেনে। তারপর সৌদি আরব, ওমান, কাতার, ইরান হয়ে পৌছায় আফগানিস্থানে। সব শেষে পাকিস্তান। এই পুরো যাত্রাটি কিন্তু অল্প সময়ে সম্পন্ন হয়নি; হয়েছিলো ৫০,০০০ বছরে। আর এমনও ভাবার কোন কারণ নেই যে আমি শুধু নির্দিষ্ট একটি দলকেই ব...

মানব ইতিহাসে ছাগলের অবদান!

ছাগল। মাংস, দুধ, চামড়া, বাচ্চা-কাচ্চা সর্বস্ব উজাড় করে দিয়ে উপকার করছে আমাদের। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। মানব ইতিহাসে এক বিশাল অবদান রেখেছে এই ছাগল! ৮৫৮ খ্রিস্টাব্দ। কালদি নামের ইথিওপিয়ার এক ছাগল পালক, প্রতিদিনের মতো সেদিনও গিয়েছেন ছাগল চরাতে। ছাগলগুলোকে চরতে দিয়ে সে চলে গেছে আরাম করতে। দুপুরের দিকে ঘুমিয়েও পরেছিল একটু। বিকেলে জেগে উঠে আবার বাঁশিতে ফুঁ। এবারে সেই সুর, যা সে প্রতিদিনই বাজায় ছাগলের পালকে তাঁর কাছে ফিরিয়ে আনার জন্য। এই সুর শুনেই ছাগলগুলো তার কাছে ফিরে আসে এবং বাড়ির পথ ধরে। কিন্তু সেদিন ছাগলগুলো এলোনা। চিন্তিত হয়ে পড়ল কালদি। খুঁজতে শুরু করল। একটুক্ষণ খুঁজেই পেয়েগেল ছাগলগুলো। কিন্তু সমস্যা হল, ব্যপক লাফালাফি শুরু করেছে ছাগলগুলো। দেখে বুঝারও উপায় নেই যে দিনভর এগুলো পুরো ভূমিতে চরেবেড়িয়েছে। আজ এদের যেন কোন ক্লান্তিই নেই! ব্যপারটা বুঝার চেষ্টা করল কালদি। খেয়াল করল, ছাগলগুলো ইথিওপিয়ার ঝোপ থেকে এক ধরণের ছোট ছোট লাল ফল খাচ্ছে আর তুমুল উৎসাহে লাফালাফি করে যাচ্ছে। কৌতূহলী হয়ে উঠলো কালদি। দু’তিনটা ফল হাতে তুলে নিল, ঘুড়িয়েফিরিয়ে দেখল। মুখে পুরে দিল। খেয়ে নিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্যপক...

জীবনের মূল্য

মানুষের জীবনে ঘুম এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যায়গা জুড়ে রয়েছে। ডাক্তাররা বলেন অন্তত আট ঘণ্টা ঘুমানো উচিৎ। মানে দিনের তিন ভাগের এক ভাগ। অর্থাৎ এই নিয়ম অনুসরণ করলে আপনি জীবনের একতৃতীয়াংশই ঘুমিয়েই কাটিয়ে দিবেন। কোন মানে হয়? আমার অন্তত এই নিয়ম একেবারেই অপছন্দ। যদিও সাহিত্যিক শিবরাম চক্রবর্তী ব্যাপারটাকে দেখেছিলেন অন্য ভাবে। একবার এক পত্রিকার সাংবাদিক তার সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় জিজ্ঞেস করল – আপনি সাধারনত কখন ঘুমাতে যান? উত্তরে শিবরাম বাবু বললেন – যখন ঘুম পায়। আর কখন ঘুম থেকে ওঠেন? শিবরাম বাবু বললেন – যখন ঘুম ভাঙে। ঘুমের কথা বলতে বলতে একটা কৌতুক মনে পড়ে গেলো। এক শিক্ষক ছাত্রকে জিজ্ঞেস করলেন – ঘুম পেলে আমারা বিছানায় যাই কেন? ছাত্র উত্তর দিল – বিছানা আমাদের কাছে আসে না তাই। কম ঘুমিয়ে শরীর খারাপ করার পক্ষপাতী আমি নোই। তবে জীবন অমূল্য। শুধু ঘুমিয়ে এর একটা বড় অংশ শেষ করে দিতে আমার বড় আফসোস হয়। জীবনের মূল্য নিয়ে একটা ঘটনা বলি শুনুন – প্রায় পাঁচশ বছর আগেকার কথা। বর্তমান পাকিস্তানে পাঞ্জাব নামের যে প্রদেশটি রয়েছে সেখানে থাকতেন গুরু নানাক শাহ্‌। যিনি শিখ ধর্ম প্রবর্তন করেন। তার কাছে এক লোক গিয়ে বলল ...

টুথব্রাশের ইতিহাস

Image
ছবি গুগল থেকে দ্বিতীয়বার দাঁত পড়ে গেলে বা ফেলে দিলে আর উঠবে না এই ব্যপারটা আমি কোনদিন মেনে নিতে পারিনি। আফসোস। তাই অনেকের মতো দাঁত বাঁচনর চেষ্টা করি বা করতে হয়। এই দাঁতের মূল্য মানুষ হাজার হাজার বছর আগে থেকেই বুঝতে শুরু করে। সে জন্যেই ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায় হাজার-হাজার বছর আগে যাখন টুথব্রাশ আবিষ্কার হয়নি তখন দাঁত পরিষ্কার করতে মানুষ নানান ধরণের খিলাল, গাছের ডাল, মাছের কাঁটা ইত্যাদি ব্যবহার করেছে। প্রথম গাছের ডাল ব্যবহার করতে দেখা যায় বেবিলনে, যীশু খ্রিষ্টের জন্মের ৩৫০০ বছর আগে। পশুর লোম দিয়ে প্রথম আধুনিক ব্রাশ বানায় চিন। সেও হাজার-বারশ বছর আগের কথা। তারপর ধীরে ধীরে জাপান ও ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে। ছড়াতে থাকে আর এর মানোন্নয়ন হতে থাকে। যানা যায় নেপোলিয়ন নাকি ঘোড়ার লোমের তৈরি টুথব্রাশ ব্যবহার করতেন। প্রথম যে বইটিতে টুথব্রাশ ব্যবহারের কথার উল্লেখ পাওয়া যায় সেটি হলো ব্রিটিশ পুরাতত্ত্ববিদ Anthony Wood এর আত্মজীবনীত (প্রকাশ কাল - ১৬৯০ ইং)। টুথপেস্টের ব্যবহার এসেছে আরও পরে। একটা ঘটনা বলি, একবার আশরাফ আলী থানবী (র.) এর কাছে এসে এক লোক বলল - আমরা যখন জন্মাই তখন...

মায়া সভ্যতা

Image
‘ মায়া ’ পৃথীবির প্রাচীন সভ্যতা তথা ধর্ম সঙ্ককৃতির মধ্যে অন্যতম। যার সূচনাকাল খ্রিষ্টপূর্ব ২০০০ – ২৫০ অব্দ। এরা মেসোআমেরিকান একটি সভ্যতা। ‘মেসো’ গ্রিক শব্দ যার অর্থ মধ্য আর মেসোআমেরিকা বলতে বুঝায় মধ্য আমেরিকা মূলত মেক্সিকো। মেক্সিকান রাষ্ট্রগুলোর দক্ষিনে এবং বর্তমান গুয়াতেমালা, বেলিজ, এল সালভাডোর এবং পশ্চীমি হন্ডুরাসে এই সভ্যতা বিস্তার লাভ করে। খ্রিষ্টপূর্ব ২৫০ – ৯০০ অব্দ পর্যন্ত অনেক মায়া নগরীগুলো নানাদিক দিয়ে উন্নতি লাভ করে। ৯০০ শতক থেকেই এদের নগর সভ্যতা বিকাশ লাভ করে। উন্নতির শীর্ষে অবস্থানকালে মায়ানদের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ২০ লাখ।এই সভ্যতাটি ছিল বিশ্বের সর্বাপেক্ষা ঘনবসতি এবং সাংস্কৃতিক ভাবে গতিশীল একটি সমাজ। ভৌগলিক বিবরন: মায়া অঞ্চলকে সাধারনভাবে তিন ভাগে ভাগ করা যায়: ১. দক্ষিন মায়া উচ্চভূমি: গুয়াতেমালা এবং চাপাস দক্ষিন মায়া উচ্চভূমির অন্তর্ভূক্ত, ২. দক্ষিন বা মধ্য মায় নিচুভূমি: মেক্সিকান রাষ্ট্রগুলো কাম্পেছ, কুইন্টানা রোও এবং উত্তর গুয়াতেমালা, বেলিজ এবং এল সালভাডোর দক্ষিন বা মধ্য মায়া নিচুভূমির অন্তর্ভুক্ত, ৩. উত্তর মায়া নিচুভূমি: ইয়ুকাটান উপদ্বীপ এবং পুউক পাহাড়গুলো উ...

রাবণের গুণ

Image
রামায়ণ মহাকাব্যে রামের মেলা গুণ – রাজপুরুষত্বম, ধর্মপরায়ণ, বীর, ধীর, সুসভ্য, সুকান্ত, জ্ঞানী, গুণী ইত্যাদি আর রাবণ তার উল্টো বিকলাঙ্গ (দশমুণ্ড), স্বৈরাচারী, অসভ্য, রাক্ষস, কামুক ইত্যাদি। কিন্তু এমন প্রশ্ন মনে আসতেই পারে যে, রামায়ণের রচয়েতা বাল্মীকি (বা যেই হোক) এর আর্যপ্রীতি ও অনার্যবিদ্বেষের কারনেই কি রামকে নায়ক আর রাবণকে ভিলেন হিসেবে দেখান হয়েছে? কারন ঘটনা বর্ণনার নানা ফাঁকফোকর দিয়ে রাবণের কৌলিন্য, শৌর্য-বীর্য ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রকাশ দেখতে পাওয়া যায়; যার ঔজ্জ্বল্য রামের উজ্জ্বলতার চেয়ে বহুগুণ বেশী। রাম ছিলেন ক্ষত্রিয়, চার বর্ণের দ্বিতীয় বর্ণের মানুষ। সেকালের ক্ষত্রিয়রা ছিলো বংশগত যোদ্ধা, অর্থাৎ নরঘাতক। অন্যদিকে রাবণের দাদা পুলস্ত্য ছিলেন ব্ৰহ্মার মানসপুত্র এবং স্বনামধন্য ঋষি, পিতা বিশ্ৰবাও ছিলেন একজন বিশিষ্ট ঋষি। ঋষি মাত্রেই ব্রাহ্মণ। ব্রাহ্মণ-এর সাধারণ সংজ্ঞা হলো – ব্রহ্মাংশে জন্ম যার, অথবা বেদ জানে যে, কিংবা বেদ অধ্যয়ন করে যে, নতুবা ব্রহ্মের উপাসনা করে যে। রাবণ গুণগত না হলেও কুলগত ব্ৰাহ্মণ ছিলেন নিশ্চয়ই। রাবণের রাজমহলকে (কখনো লঙ্কাকেও) বলা হয়েছে ‘স্বর্ণপুরী, তার প্রম...

আলুনামা

Image
আপনি যদি আলু ভক্ত হয়ে থাকেন তাহলে একটা ধন্যবাদ দিন ইনকাদের। কারণ ওরাই পৃথিবীর প্রথম আলু উৎপাদনকারী জাতি। আরেকটু গোঁড়া থেকে বলি, ধারণা করা হয় ১১০০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে ইনকারা বেরিং প্রণালী পার হয়ে এশিয়া থেকে দক্ষিণ আমেরিকার অন্দিজ পর্বতমালার পেরুর উচ্চভূমির দিকে চলে আসে এবং সেখানে "আলু" সহ আরও অন্যান্য কৃষিজ পন্য উৎপাদন করে, লামা পুষে বসবাস শুরু করে। ইনকারা ছিল আলুর একনিষ্ঠ ভক্ত। ওদের ঝোলে-ঝালে-অম্বলে সবকিছুতেই আলু। হজমের সুবিধার জন্য সব খাবারেই আলু, হাড় ভাংলে আলুর রস, বাতের ওষুধ হিসেবে আলু, সময় পর্যন্ত মাপত আলুর ফলন দেখে (দেখ কাণ্ড!)। গোড়াপত্তনের তিনশ বছর পরে স্প্যানিশরা লুটপাট শুরু করে ইনকাদের। মানে স্প্যানিশরা পৃথিবীর দ্বিতীয় জাতি যারা আলু চোখে দেখে, স্বাদ নেয় আর চাষবাস করে। ওদের হাত ধরেই আলু পৌঁছে সাড়া ইউরোপে। প্রথম দিকে ভাবা হতো আলু শারীরিক উত্তেজনা বাড়ায়, যদিও পরবর্তীতে আলু তার নিজ গুণেই লোকেদের ভুল ভাঙায়। শুধু যে ভুল ভাঙিয়েই খান্ত হয়েছে তা নয় স্প্যানিশ সেনাবাহিনীর খাদ্য তালিকাতেও যায়গা করে নিয়েছিল অনায়াসে, স্প্যানিশ সেনাবাহিনী তখন পুরো ইউরোপে ছড়িয়ে...