Posts

Showing posts from January, 2017

ওরা

ওদের দুজনকে দেখলেই বুঝা যায়, মেড ফর ইচ আদার। হাত ধরাধরি করে সিঁড়ি দিয়ে উপড়ে উঠে আসছে। ফিসফিস করে কি যেন বলছে আর হেঁসে হেঁসে এ ওর গায়ে গিয়ে পরছে। এই সন্ধ্যেবেলা একজোড়া যুবক যুবতী এমনি এমনি তো আর আসেনি এখানে। কিইবা করার আছে ওদের। এসব তো আর যেখানে সেখানে করার উপাই নেই। অগত্যা এই নির্মাণাধীন বিল্ডিংটাকেই বেঁছে নিতে হলো। আকাশে পূর্ণিমা কিন্তু এখানে, এই বিল্ডিঙে কোন আলো নেই। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, একটা বিশাল কাল অবয়ব দাঁড়িয়ে আছে। একটা বহুতল বাড়ির কঙ্কাল। ওদের অবশ্য এসব ভাবার সময় নেই। ইচ্ছেটা ওদের মধ্যে এখন খুব প্রগার। ওরা যায়গা খুঁজছে। রুমগুলো এখনো তৈরি হয়নি। শুধু দেয়াল উঠেছে, না আছে জানালা, না আছে দরজা। একটা ঘর দেখে ওরা এগিয়ে গেল। হুম... এই ঘরটাই। পারফেক্ট। একদম পারফেক্ট দেখতে। যেমন শুনেছিলো ঠিক তেমনি। ছেলেটা দেখতে বেশ নাদুসনুদুস, ফর্সা; টোকা দিলে যেন রক্ত জমে যাবে। হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পড়ে আছে মেঝেতে। গোঙাচ্ছে। ওরা দুজন এগিয়ে গেল ছেলেটার দিকে, তারপর মুখ চাওয়া-চাওয়ি করলো পরস্পর। মুচকি হাসল দুজনে। দুজনের মুখের দুপাশ থেকে বেড়িয়ে এলো লম্বা দুটো দাঁত। ঝাঁপিয়ে পড়লো ওরা ছেলেটির উপর.....

একজন অন্যরকম লেখক

যেটা আপনি চাক্ষুষ দেখেননি, সেটার যথার্থ বর্ণনা আপনি দিতে পারবেন না। যদি রং চরিয়েও বলেন তাহলে হয় রং কম হয়ে যাবে নয়তো বেশি। এই ব্যাপারটা আমি গোঁড়াতেই বুঝেছিলাম, তাই যতক্ষণ কোনকিছু চাক্ষুষ না দেখছি লেখার প্রশ্নই ওঠে না। ও (আমার স্ত্রী) বিছানার উপর, আমি বসে আছি ঘরের অন্য পাশে সোফার উপর। এখান থেকেও আমি ওর গায়ের সুগন্ধটা পাচ্ছি। কি এক তীব্র আকর্ষণ। চার বছর কেটে গেল তবুও কত মায়া। কি মিষ্টি মুখটা ওর, হরিণীর মতন চোখ, গোলাপের পাপড়ির মত ঠোঁট, চুলগুলো যেন কালো মেঘ। ওর বুকে মুখ গুজে দিয়ে যে সুখ আমি অনুভব করি তা পৃথিবীর কোথাও আর পাবো না আমি জানি। প্রায়ই চিন্তাটা মাথায় আসে, ওকে নিয়ে একটা প্রেমের কবিতা লিখি। হয়ে ওঠে না। রুদ্ধশ্বাস থ্রিলার ছাড়া না আমি কিছু পড়ে স্বাদ পাই, না লিখে; লিখতে পারিও না অন্যকিছু। তবুও চেষ্টা করেছিলাম - "এতো দেখি তবুও ইচ্ছে জাগে বারবার তোমায় নিয়ে কবিতা লেখার ভাষা হয়নি যোগাড়" যে থ্রিলারটা লিখছি তাতে একটা মেয়েকে কেন্দ্র করেই রহস্য দানা বাঁধতে শুরু করে, রহস্য যখন অনেকটাই উন্মোচিত হয়ে আসছিলো তখন গল্পটাকে আরও একটু রুদ্ধশ্বাস করবার জন্যে মেয়েটাকে খুন করার একটা নতুন...

লেখক খুন

ভোর হতে না হতেই ইন্সপেক্টরের ফোন। তার পরেই চলে এলাম এখানে। একজন লেখকের বাড়ি। খুব বড় লেখক নন। মোটামুটি ধরণের। এলোমেলো জীবনযাপন করতেন। বয়স ত্রিশ থেকে পঁয়ত্রিশের মধ্যে। কাল রাতে খুন হয়েছেন। সকালে পত্রিকাঅলা পত্রিকা দিতে এসে দেখে দরজা খোলা, ভেতরে লাইট জ্বলছে, জানালা খোলা হয়নি। এমনটা কখনো দেখা যায়নি এবাড়িতে। তাই কৌতূহলবশত ভেতরে ঢোকে। তখনই দেখতে পায় লেখকের লাশ, পুলিশে খবর দেয়। তাকে অবশ্য ইন্সপেক্টর এখন বারান্দায় বসিয়ে রেখেছে। এলাকাটা নিরিবিলি। উঁচু উঁচু বিল্ডিং এখানে কম। একতলা পাকা বাড়িটার চারদিকে দেয়াল। ভেতরে যাই ঘটুক বাইরে থেকে বোঝা সম্ভব নয়। গেইটটা অবশ্য বাইরে থেকে খোলা যায় তবে ওটা দেখে মনে হচ্ছে খোলাই থেকে সবসময়। পঞ্চাশ-ষাট বছরের পুরনো বাড়ি। দুটো বেডরুম, একটা অব্যবহৃত, একটা ড্রয়িং প্লাস ডাইনিং রুম, তার লাগোয়া কিচেন ও বাথরুম। দেখে বোঝা যায় এক-দুবার সংস্কার করে বর্তমান চেহারায় আনা হয়েছে। বাড়ির সামনে একটু যায়গাও আছে, আগাছা পূর্ণ। লেখকের লাশটা বেডরুমেই উপুড় হয়ে পড়েছিল। ছুরি দিয়ে করা হয়েছে খুনটা। ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এখনো মেঝের অনেকটা রক্ত পড়ে আছে, জমাট রক্ত। ভাবছি খুনের ম...

মায়া সভ্যতা

Image
‘ মায়া ’ পৃথীবির প্রাচীন সভ্যতা তথা ধর্ম সঙ্ককৃতির মধ্যে অন্যতম। যার সূচনাকাল খ্রিষ্টপূর্ব ২০০০ – ২৫০ অব্দ। এরা মেসোআমেরিকান একটি সভ্যতা। ‘মেসো’ গ্রিক শব্দ যার অর্থ মধ্য আর মেসোআমেরিকা বলতে বুঝায় মধ্য আমেরিকা মূলত মেক্সিকো। মেক্সিকান রাষ্ট্রগুলোর দক্ষিনে এবং বর্তমান গুয়াতেমালা, বেলিজ, এল সালভাডোর এবং পশ্চীমি হন্ডুরাসে এই সভ্যতা বিস্তার লাভ করে। খ্রিষ্টপূর্ব ২৫০ – ৯০০ অব্দ পর্যন্ত অনেক মায়া নগরীগুলো নানাদিক দিয়ে উন্নতি লাভ করে। ৯০০ শতক থেকেই এদের নগর সভ্যতা বিকাশ লাভ করে। উন্নতির শীর্ষে অবস্থানকালে মায়ানদের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ২০ লাখ।এই সভ্যতাটি ছিল বিশ্বের সর্বাপেক্ষা ঘনবসতি এবং সাংস্কৃতিক ভাবে গতিশীল একটি সমাজ। ভৌগলিক বিবরন: মায়া অঞ্চলকে সাধারনভাবে তিন ভাগে ভাগ করা যায়: ১. দক্ষিন মায়া উচ্চভূমি: গুয়াতেমালা এবং চাপাস দক্ষিন মায়া উচ্চভূমির অন্তর্ভূক্ত, ২. দক্ষিন বা মধ্য মায় নিচুভূমি: মেক্সিকান রাষ্ট্রগুলো কাম্পেছ, কুইন্টানা রোও এবং উত্তর গুয়াতেমালা, বেলিজ এবং এল সালভাডোর দক্ষিন বা মধ্য মায়া নিচুভূমির অন্তর্ভুক্ত, ৩. উত্তর মায়া নিচুভূমি: ইয়ুকাটান উপদ্বীপ এবং পুউক পাহাড়গুলো উ...

সাতকাহন সাতকথা

Image
সমরেশ বাবুর সাতকাহনের খোকন হতে ইচ্ছে করে খুব। একদিন রাস্তায় তোর দামী গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে- জানতে চাইবো, আমাকে চিনতে পেরেছিস? তুই বিব্রত ভঙ্গিতে, গাড়ি থেকে নেমে বলবি-         “অপাঙক্তেয়র দল সব” চিনতে না পারার কারন তো নেই! জানি আমি খোকন হলেও, সাতকাহনের দীপা তুই নোস্ আড়চোখে বুঝিয়ে দিবি তুই এখন উচ্চপদস্থ!                   “তুই” সম্বোধনটায় ঠিক ভদ্রতা হচ্ছেনা।                    তুই নিশ্চয়ই জানিস খোকনদের ভদ্র হতে নেই, আমার মলিন চেহারা, মলিন শার্ট, মলিন দুনিয়া, মলিন ভবিষ্যত মুহুর্তের জন্য তোকে বিরক্তিনগর থেকে ঘুরিয়ে আনলেও                   তোর চেহারায় দাঁতচাপা ভাবটা ঠিক ভেসে উঠবে। গাড়ির ভেতরে থাকা লোকটি জানতে চাইবে-                 ...