Posts

Showing posts from May, 2020

কে

বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে। ঝুম বৃষ্টি না। তারচেয়ে একটু কম। মাঝারি বর্ষণ বলা যেতে পারে। বিছানায় শুয়ে বৃষ্টির শব্দ শুনছি। একবার মনে হোলো জানালাটা খুলে বৃষ্টি দেখি কিন্তু পর মুহূর্তেই চিন্তাটা বাদ দিয়ে দিলাম। কারণ জানালা খুললেই ঘরে মশা ঢুকবে। আর মশা ঢুকলেই কয়েল ধরাতে হবে। এখন কয়েল ধরাতে ইচ্ছে করছে না। তাই চুপচাপ শুয়েই থাকলাম। আমার পরিবার বলতে আমি আর আম্মা। এখন আম্মা নেই। খালার বাড়িতে গেছেন। ফিরতে সন্ধ্যে হবে। হঠাৎ দরজায় টোকা দেওয়ার শব্দ হলো। অবাক হয়ে ভাবলাম - আম্মা এত তাড়াতাড়ি এসেগেছেন! এক ঘণ্টাও তো হয়নি। খালার বাড়িতে যেতে আসতেই তো এক ঘণ্টার বেশি লাগার কথা। নাকি যায়নি কোন কারনে। এসব ভাবতে ভাবতে আবার দরজায় টোকা পড়ল। বিছানা ছেড়ে দরজার কাছে গেলাম। দরজাটা খুলতে যাব এমন সময় বাইরে থেকে হাঁক দিয়ে উঠল - আম্মা দরজা খোলো, এতক্ষণ লাগে... চমকে উঠলাম। আরে এটা তো আমার গলা!

রম্য লেখার চেষ্টা

রম্য লেখার সিরাম চেষ্টা করেও যখন কিছু হয় না। তখন নিজেকে চিপে ভেতর থেকে রস বের করা ছাড়া তো আর কিছু করার থাকে না। নিচের লেখাগুলো তারই প্রকাশ। সাম্প্রতিক সময়ে এগুলো আমার ফেসবুকে স্থান পেয়েছে আর লাইক-কমেন্টের অভাবে ফেসবুক ফেটে চৌচির হওয়ার যোগাড় হয়েছে! (১) সালমান খানরে একবার প্রশ্ন করা হয় - রাতে যখন ঘুম আসে না, বিছানায় শুয়ে এপাশ ওপাশ করেন তখন তিনি কি চিন্তা করেন। তিনি উত্তরে বলেন যে তার নাকি বিছানায় ঘুম আসে না তাই কাউচের উপড়ে ঘুমান। আমারও রাতে ঘুম আসে না কিন্তু ডাক্তারের নির্দেশ ৮ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে। তাই ভালাম সালমান খান টেকনিকটা আপ্লাই করে দেখি। কিন্তু কাউচ কোই পাবো। আমার ছাপরায় তো কাউচ নাই। তাই একটা বুদ্ধি বাইর করলাম। তিনটা চেয়ার এক যায়গায় কইরা তার উপড়ে তোষকটা চাপায়া সাইডে দুইটা বালিশ দিয়া একখান ফলস কাউচ বানাইলাম। শুয়া দেখি দারুণ ফিলিংস। পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ঘুম আইসা পড়ল😴 স্বপ্ন দেখলাম - আমি সালমান খানের বাড়িতে কাউচের উপড়ে ঘুমায়া আছি এমন সময় সালমান খান আইসা উপস্থিত। সে আমার দিকে একটা পিস্তল তাক কইরা বলল - তোর সইল্লে এত্তুডি ছ্যাদা করুম যে কনফিউজড হয়া যাবি, শ্বাস কোন দিক দিয়া নিবি আর... ধড়ফ...

স্বপ্ন

এক তখনো এদেশে লকডাউন শুরু হয়নি। রাতে খেয়েদেয়ে সাড়ে নয়টার মধ্যে বাসা থেকে বেড়িয়ে পড়লাম। গন্তব্য - রেজা ভাইয়ের বাসা। গিয়ে দেখি ভদ্রলোক ছাদের উপর একটা পাটির উপর চিত হয়ে শুয়ে উদাস ভাবে সিগারেট টানছেন আর আকাশের দিকে ধোঁয়া ছাড়ছেন। আমার দিকে না তাকিয়েই বললেন - এসো লেখক।  আমি গিয়ে তার পাশে বসলাম। জিজ্ঞেস করলাম - কি করে বুঝলেন যে আমি? তিনি এবারো আমার দিকে না তাকিয়ে উত্তর দিলেন - পায়ের শব্দ। মনে মনে ভাবলাম লোকটা কত অদ্ভুত। একটা দোতলা বাড়ির ছাদের উপর পিচ্চি পিচ্চি দুটো ঘর ভাড়া নিয়ে থাকেন। গাদা গাদা বইপত্র, ম্যাগাজিন আর কাগজত্রে ঠাসা দুটো ঘর। একটা ল্যাপটপ আছে। আমি নিশ্চিত ওর মধ্যে বিনোদনমূলক কিছুই খুঁজে পাওয়া যাবে না। ছাদের উপর অন্তত ত্রিশ প্রজাতির ক্যাকটাস দিয়ে একটা বাগান করেছেন। মাঝে মধ্যে এসব ছেড়ে কিছুদিনের জন্য হাওয়া হয়ে যান। এই হাওয়া হয়ে যাওয়ার ব্যাপারটাই অবশ্য তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। তিনি বাড়ি থেকে বেড়িয়ে পরেন গল্পের খোঁজে। সেসব গল্প কখনো হয় রহস্যময়, কখনো অদ্ভুত, কখনো ভয়ংকর আবার কখনো বা সুযোগ করে দেয় মাথা খাটানোর। এই যে পৃথিবী জুড়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলা হচ্ছে তুমি ...

সাগরে আলাপ

Image
- কিরে ঘটনা কি? - কি জানি। কিছুই তো বুঝতে পারছি না। - কাল শুনলাম নৌকায় দুই লোক কি সব আক্রমণ নিয়ে কথা বলছিল। কিসের জেন আক্রমণ হয়েছে। - বলিস কি! - হ্যাঁ। কিন্তু কিসের যে আক্রমণ সেটা ঠিক বুঝতে পারলাম না। - তীরে মানুষের সংখ্যা নামমাত্র। জাহাজ-নৌকা সবই একেবারে কমে গেছে। কি হচ্ছে কিছুই তো বুঝতে পারছি না। - যা হচ্ছে ভালোই হচ্ছে। - একথা কেন বলছিস? - কারণ এই যে আমরা তীরের এত কাছে ঘুরে বেরাচ্ছি এটা কিন্তু ছয়-সাত পুরুষ আগেই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কোনদিন ভেবেছিলি এত কাছ থেকে ডাঙা দেখতে পারবি? - তা যা বলেছিস। পৃথিবী যেন আমাদের পাওনা অধিকার ফিরিয়ে দিচ্ছে। [বঙ্গোপসাগরে দুই ডলফিনের মধ্যে কথা হচ্ছিল]